আন্দোলনের জন্য নিষিদ্ধকরণ, নাকি নিষিদ্ধের জন্য আন্দোলন?

যে তিনটি অভিযোগ এনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে, ঘটনাগুলোর দুটিই ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ঘটেছে। আর বাকিটি ঘটেছে ২৬ এপ্রিল আইপিএলে হায়দরাবাদ বনাম পাঞ্জাবের ম্যাচে। এতদিন যা চাপা পড়ে ছিল কোনো অতল গহব্বরে। তদন্ত নির্ভুল করতেই কি তাহলে এতটা সময় নিয়েছে আকসু? আর ভারত সফরের আগেই কেন এমন সিদ্ধান্ত? প্রশ্ন জেগেছে সাধারণ ক্রিকেট প্রেমীদের মনে। অনেকে এর কারণ হিসেবে বিসিবি সভাপতিকে দোষারোপ করলেও আইসিসির দেয়া বিবৃতির পর এটা স্পষ্ট যে, সাকিবের সাথে তারা (আকসু) চলতি বছরের শুরু থেকেই প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, সাকিব তাদের কাছে নিজের ভুল স্বীকারও করেছেন। তাহলে কি সাকিব শুরু থেকেই জানতেন, বছরের এ সময়ে এসে আইসিসি থেকে তিনি বড় ধরণের এক সাজা পেতে যাচ্ছেন?

শিরোনামে আসার অভিজ্ঞতা নতুন নয় সাকিবের। তবে এভাবে আর খবরের শিরোনাম আগে কখনো হননি। তিনটি অভিযোগ এনে সাকিবকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আকসু। যার দু’টি ঘটনা ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ঘটেছে। আরেকটি ঘটেছে ২৬ এপ্রিলে আইপিএলের ম্যাচে। মাঝে কেটেছে ১ বছর ৯ মাস। এ বিষয়ে বিসিবিও জানতো না কিছু বলে জানিয়েছেন খোদ বিসিবি বস নাজমুল হাসান পাপন। তাই অনেকটা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতোই ব্যপারটি সমর্থকদের হতবাক করেছে। তবে আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিট-আকসুর সঙ্গে নিয়মিতই ব্যক্তিগত যোগাযোগ হয়েছে সাকিবের। চলতি বছর ২৩ জানুয়ারি আকসুর সাথে প্রথমবার দেখা করেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। এরপর ২৭ আগস্ট আবারও আইসিসির সংস্থাটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এসময় দিপক আগারওয়ালের সাথে তিনটি অভিযোগের কথা স্বীকার করেন সাকিব।

নিষিদ্ধ হওয়ার আগে বিসিবির নিয়ম ভেঙ্গে দেশের একটি টেলিকম কোম্পানির সাথে চুক্তি, দেশের ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নিতে ক্রিকেটারদের আন্দোলন, যেখানে চালকের আসনে ক্যাপ্টেন সাকিব। তবে কি এর সবই সাকিবের পরিকল্পনার অংশ? দেশের ক্রিকেটবোদ্ধাদের মত অন্তত তাই। অনেকেই বলেছেন, যেহেতু লম্বা একটা সময় সাকিব বাংলাদেশ দলের যত্ন নিতে পারবেন না, এটা বুঝতে পেরে দলের মঙ্গলের কথা চিন্তা করেই এই আন্দোলন। যাতে লম্বা সময় পর দলে ফিরে দলটিকে গুছিয়ে নিতে তার বেশি সময় অপচয় না হয়। কারণ হিসেবে দেখা যেতে পারে নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হওয়ার ২ বছর পরই ভারতে বসতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ১৩তম আসর। এই অল্প সময়ে দলকে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করা সাকিবের জন্য কঠিনই হতো। তাহলে বিসিবির নিয়ম ভেঙ্গে টেলিকম কোম্পানির সাথে চুক্তি কেন? এ বিষয়ে অনেকে বলেছেন, যেহেতু সাকিব জানতেন তিনি লম্বা সময়ের জন্য ক্রিকেটের বাইরে থাকবেন এবং নিষিদ্ধ থাকবেন, তাই তিনি এ চুক্তি করেছেন। তবে এর উত্তর হয়তো সাকিবই ভালো দিতে পারবেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভারত সফরের আগে এমন একটা সিদ্ধান্ত দলকে কতটা ভোগাবে? সাবেক বিসিবির এক পরিচালক মনে করেন এটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি বলেন, ‘যে কোনো একাদশে যদি সাকিব না থাকে তাহলে সেই একাদশটা এগিয়ে নেওয়াটা অনেক বড় সমস্যা। দুজন খেলোয়াড়ের প্রয়োজন হয় মাঠে। একজন বোলার আরেকজন ব্যাটসম্যানের। আর ভারতের মতো দেশের সঙ্গে যখন খেলতে যাওয়া হচ্ছে তখন এটা অপূরণীয় ক্ষতি।’আসন্ন সূচিতে ভারতের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ ছাড়াও অজিদের বিপক্ষে হোম সিরিজে খেলতে পারছেন না সাকিব আল হাসান। এছাড়াও আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোয়ালিফায়ারেও টিম বাংলাদেশকে লড়তে হবে সাকিবকে ছাড়াই। তবে আশার বিষয়, কোয়ালিফায়ার উতরে গেলে, বিশ্বকাপের মূলপর্বে আবারো জ্বল জ্বল করে উঠবে আসবে দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় নাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares