এমপিওভুক্তির খবর শুনে এক রাতে তৈরি হলো কলেজ!

নতুন করে এমপিওভুক্ত (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) করা হলো ২৭৩০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে এক হাজার ৬৫০টি বিদ্যালয় ও কলেজ রয়েছে।আর সেই এমপিওভুক্তির তালিকায় নাম এসেছে—এমন খবর পাওয়ামাত্র ধানক্ষেতের পাশেই একটি কলেজের ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। রাতের আঁধারেই সেই ফাঁকা মাঠের মাঝখানে লাগানো হয়েছে কলেজটির সাইনবোর্ড। সেই সাইনবোর্ডে কলেজটির নাম লেখা রয়েছে – নতুনহাট টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ।পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলাধীন ঝলইশালাশিরি ইউনিয়নের নতুন হাট বাজারের হোসনাবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসাসংলগ্ন একটি পতিত জমিতে হঠাৎ করে এক রাতেই কলেজ নির্মিত হলে।যদিও সাইনবোর্ড ছাড়া আর কিছুই নেই সেই কলেজের। পতিত সেই মাঠে কলেজের কোনো ভবন, গেট বা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অস্তিত্বের দেখা মেলেনি।

জানা গেছে, এক রাতেই শুধুমাত্র সাইনবোর্ড সর্বস্ব নিয়ে জন্ম দেয় এই কলেজের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সম্প্রতি ঘোষিত এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায়।এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, এমপিওভুক্তির খবর পেয়ে হঠাৎ করেই আগের রাতে স্থাপিত হয়েছে ওই কলেজের সাইনবোর্ড। সে রাত থেকেই কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক ইট গেঁথে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।এক রাতেই নির্মিত এমন ভুঁইফোড় কলেজের সাইনবোর্ড দেখে কলেজের বিস্মিত হয়েছেন এলাকাবাসী। বিষয়টি ওই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।জানা গেছে, এক রাতে গজে ওঠা এই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন পঞ্চগড় বিসিকনগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ দেলদার রহমান।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি নতুনহাট টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেচের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি। আমার স্ত্রী শামীমা নাজনীন এর অধ্যক্ষ।কলেজের ভবন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কোথায় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আগে টিনশেড ঘরে পাঠদান চলত। বর্তমানে কলেজটির ২ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।তাহলে রাতারাতি ধানক্ষেতের পাশে ওই সাইনবোর্ড ও ভবন কেন নির্মাণ করা হলো প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার ঘর আমি যখন খুশি তখন উঠাব। রাতারাতি একটি কলেজ নির্মাণ হয় নাকি? কলেজটির অস্তিত্ব রয়েছে বলেই সরকার একে এমপিওভুক্ত করেছে।দেলদার রহমান দাবি করেন, গত বছরের এসএসসিতে এ কলেজের ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তার প্রমাণও রয়েছে তার কাছে।এ ব্যাপারে পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিমাংশু কুমার রায় সিংহ বলেন, এমপিওভুক্তির বিষয়ে তো আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। এমপি-মন্ত্রী ও সচিবরা যা করবেন তাই আমরা পালন করছি। এমন ভুঁইফোর কলেজ কিভাবে এমপিওভুক্তির তালিকায় এলো তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন।উল্লেখ্য, পঞ্চগড় জেলার ৫ উপজেলার মোট ৪টি কারিগরি কলেজ এমপিওভুক্তির তালিকায় এসেছে।

প্রসঙ্গত নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৬ষ্ঠ-৮ম) ৪৩৯টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৬ষ্ঠ-১০ম) ৯৯৪টি, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় একাদশ থেকে দ্বাদশ ৬৮টি, কলেজ একাদশ থেকে দ্বাদশ ৯৩টি, ডিগ্রি কলেজ (১৩শ-১৫শ) ৫৬টি।বুধবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেন।প্রধানমন্ত্রী বুধবার ঘোষণা দিলেও এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে গত জুলাই মাস থেকে। সাড়ে ৯ বছর পর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হলো।সর্বশেষ ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল।এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক হাজার ৬৫০টি বিদ্যালয় ও কলেজ ছাড়াও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দাখিল ৩৫৭টি, আলিম ১২৮টি, ফাজিল ৪২টি, কামিল ২৯টি রয়েছে। এছাড়া আরও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কৃষি ৬২, ভোকেশনাল ১৭৫ এবং এইচএসসি (বিএম) ২৮৩টি রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares