তাহিরপুরের সাবেক ওসির মিউজিক ভিডিও ভাইরাল

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নন্দন কান্তি ধরের মিউজিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পর ভিডিওটি ভাইরাল হয়।ঘুষ, দুর্নীতি ও মাদক সেবনসহ তিনি বেপরোয়া বিলাসী জীবনযাপন করেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ লুটপাটেরও অভিযোগ রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ইউটিউব চ্যানেলে তিনি গানের মডেলিং হওয়ায় তাহিরপুর উপজেলাজুড়ে নানা গুঞ্জন ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

নন্দন ধরকে তাহিরপুর থানা থেকে ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল ক্লোজড করা হয়। এরপর সুনামগঞ্জ আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর হিসেবে তাকে পদায়ন করা হয়। তাহিরপুর থানার ওসি থাকাকালে তিনি ২০১৮ সালে উঠতি বয়সী এক মডেলের সঙ্গে মিউজিক ভিডিওতে অংশ নেন।মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের বাসিন্দা নন্দন ওসি থাকাকালে ঘুষ, দুর্নীতি ও সরকারি সম্পদ লুটপাটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এছাড়া তার স্ত্রীর নামে সিলেটে বিলাসবহুল বহুতল বাড়ি করেছেন।

স্ত্রীর নামে তিনি বিলাসবহুল গাড়িও কিনেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছু তাহিরপুরের এক বাসিন্দা জানান, থানা কোয়ার্টারে নন্দন ধর এসি ব্যবহার করতেন। কয়েক লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে নন্দন ধর এসআই পদে আবেদনকারী তাহিরপুরের এক বিবাহিত কনস্টেবলকে অবিবাহিত বলে ভেরিফিকেশন দেন।অবশ্য তদন্তে বিয়ের বিষয়টি বেরিয়ে এলে ওই কনস্টেবলকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তবে নন্দনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ সদর দফতর থেকে নির্দেশনা দিলেও কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢেলে তিনি তা ধামাচাপা দেন।

এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলেও জানা গেছে। এছাড়া তাহিরপুরে তার আত্মীয়স্বজন থাকায় পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও তিনি কারো ভাই, কারো দাদা, জামাইবাবু সেজে অনৈতিক কাজ করেছেন।নন্দনের বিরুদ্ধে অভিযোগ- তাহিরপুরের যাদুকাটা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে তিনি প্রতিদিন ১৫ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করতেন। দুদকে মঙ্গলবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল এলাকার বাসিন্দা সেলিম ইকবাল।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে তাহিরপুর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তার বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু হয়। ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাহিরপুরে থাকাকালে তিনি ‘তুমি শুধু তুমি’ গানের মডেল হন। সঙ্গীত শিল্পী শুভ চৌধুরী ও পপি চৌধুরীর গাওয়া গানে নন্দন ধরের সহযোগী ছিলেন উঠতি বয়সী মডেল ঊর্মি।জানা গেছে, দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তা নন্দন ধরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় দেশ ও দেশের বাইরে প্রমোদ ভ্রমণে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি দামি ব্র্যান্ডের মদ পান করেন। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দামি মদের বোতলের ছবিও তিনি ফেসবুকে মাঝেমধ্যে আপলোড করেন।

প্রায়ই সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ তিনি ঘুরে বেড়ান। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সময়ও তিনি সিঙ্গাপুরে ছিলেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন বিলাসী জীবনযাপন ও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরও প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছু পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কেউ এ ধরনের গানের মডেল হতে পারেন না। এমনটা হলে তা হবে দায়িত্বে চরম অবহেলা।

এ ব্যাপারে তাহিরপুর থানার সাবেক ওসি নন্দন কান্তি ধর বলেন, ‘আমি কোনো গানে মডেলিং করেনি। এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও সত্য নয়।’বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে কোনো মিউজিক ভিডিওতে মডেলিং করে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares