বাবার চাকরি নেই, অভাবে কেমো বন্ধ হয়ে গেছে মেয়ের

যখন খেলাধুলা করার কথা তখন জীবন-মৃ’ত্যুর সন্ধিক্ষণে হাসপাতালের বিছানায় মৃ’ত্যুর প্রহর গুনছে সেজুতি দাস প্রভা। ক্যান্সার ধ’রা পড়েছে তার। চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে ভারতের ভেলোরে। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন প্রভা।

পাঁচ বছর বয়সী প্রভা সাতক্ষীরার তালা উপজে’লার ইস’লামকাটি ইউনিয়নের বারাত গ্রামের সদয় দাসের মেয়ে। বাবা একটি বেসরকারি এনজিওতে চাকরি করলেও মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সেই চাকরিটাও চলে গেছে। এদিকে ভারতে টাকার অভাবে মেয়ের কেমোথেরাপি বন্ধ হয়ে গেছে।

নিজের স্বামীর অসহায়ত্ব ও মেয়ের চিকিৎসা না করাতে পেরে প্রভার মা জোসনা রানী দাস সহযোগিতার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে হাজির হন তালা উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তার কার্যালয়ে।

প্রভার মা জোসনা রানী দাস জাগো নিউজকে জানান, স্বামী একটি এনজিওতে চাকরি করতো। বর্তমানে কৃষিকাজ করে। গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রভা হঠাৎ অ’সুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসককে দেখানোর পর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক বলেন, প্রভার ক্যান্সার হয়েছে। এরপর দ্রুত সময়ের মধ্যে ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করানোর পরাম’র্শ দেন। ঢাকায় নিয়ে গেলে সেখান থেকেও একই পরাম’র্শ দেন চিকিৎসকরা।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ নভেম্বর (রোববার) প্রভাকে নিয়ে ভারতের ভেলোরে যায় স্বামী সদয় দাস। এরই মধ্যে গচ্ছিত সব টাকা শেষ হয়ে গেছে। ডাক্তার বলেছেন, প্রভা সুস্থ হয়ে যাবে কেমো পূর্ববর্তী ও পরবর্তী চিকিৎসা করাতে হবে। সব মিলিয়ে ৭-৮ লাখ টাকার মতো খরচ হবে। আমাদের এত টাকা নেই। ভিটে-বাড়ি বিক্রি করার চেষ্টা করছি তবে বিক্রি করেও দেড় লাখ টাকার বেশি পাওয়া যাবে না। তালা ইউএনও স্যারের কাছে গিয়েছিলাম। স্যার বলেছেন, আমা’র পক্ষে এত টাকা দেয়া সম্ভব নয়; তবে আমি বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে দেখবো। সবাই সহযোগিতা করে আমা’র মেয়েটাকে আপনারা বাঁ’চান।

ইস’লামকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্র সেন বলেন, প্রভার বাবা সদয় দাস উদীপ্ত মহিলা উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি বেসরকারি এনজিওতে চাকরি করতো। বর্তমানে সেটিও নেই। পরিবারটি খুব অসহায়। শি’শুটির চিকিৎসা করানোর মতো আর্থিক সঙ্গতি তাদের নেই। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও এতো টাকা সহযোগিতা করা সম্ভব নয়।

তালা উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা মো. ইকবাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, চিকিৎসক বলেছেন মেয়েটিকে সুস্থ করা সম্ভব। অনেক টাকার প্রয়োজন। একার পক্ষে এতো টাকা দেয়া কারও পক্ষে সম্ভব নয়। সুস্থ হবে কিনা জানি না, কিন্তু আম’রা চেষ্টা করতে পারি। এজন্য প্রভার চিকিৎসার জন্য টাকা উত্তোলনের উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমা’র তত্ত্বাবধানে প্রভাকে চিকিৎসা সহযোগিতার জন্য একটি ফোন নম্বর দিয়ে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বানও জানিয়েছি। সবার সহযোগিতায় সুস্থ হয়ে উঠতে পারে প্রভা। হৃদয়বান মানুষগুলো চাইলে সহযোগিতা করতে পারবেন এ নম্বরে (০১৩০১৮২৯৭৭৭)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares