ভারত বলছে স্বাভাবিক, অথচ কাশ্মিরিদের জন্য বিজ্ঞাপন

ভারত সরকার বলছে, কাশ্মিরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। অথচ স্থানীয় সরকার বিজ্ঞাপন দিয়ে লোকজনকে কাজকর্মে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে যে, মোদি সরকার কাশ্মিরের সঠিক তথ্য প্রকাশ করছে না।ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার কাশ্মিরের কোনো খবরের কাগজের প্রথম পাতায় খবর ছিল না। ছিল জম্মু ও কাশ্মির সরকারের পাতাজোড়া একটি বিজ্ঞাপন। এতে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের খপ্পরে পড়বেন না, স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করুন।প্রশ্ন উঠেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও কেন্দ্রীয় নেতা-মন্ত্রীরা বলে আসছেন— মানুষ উন্নয়নের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, কাশ্মিরে সব স্বাভাবিক? তা হলে কেন প্রশাসনকে বলতে হচ্ছে, সবাই স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করুন?খবরে বলা হয়েছে, এখনও বাস চলাচল বন্ধ কাশ্মিরে। মোবাইল ফোন স্তব্ধ, ইন্টারনেট নেই।

বন্ধ অধিকাংশ দোকানপাট-বাজারও। এটিএমে টাকা নেই। অস্ত্র হাতে টহল দিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। আগস্টের মাঝামাঝি স্কুল খোলার ঘোষণা করেছে প্রশাসন, কিন্তু আজও ক্লাস শুরু হয়নি।ওই বিজ্ঞাপনে লেখা, ‘‘৭০ বছরের বেশি সময় ধরে জম্মু ও কাশ্মিরের মানুষকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনামাফিক অপপ্রচারের সাহায্যে তাদের জীবনকে সন্ত্রাস, ধ্বংস ও দারিদ্র্যের নিরবচ্ছিন্ন চক্রাবর্তে আবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। আপনারা কি তা থেকে মুক্তি চান না?’’কাশ্মিরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখাতে উপত্যকায় ব্লক স্তরে নির্বাচনের আয়োজন করেছে প্রশাসন। বিজেপি ছাড়া কাশ্মিরের সব কটি দল সেই নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা করার পর তা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দ্বাদশ শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষা হবে এ মাসের শেষ সপ্তাহে। কিন্তু আড়াই মাস যে স্কুল-কলেজে পড়াশোনা নেই, পাঠক্রমই শেষ হয়নি, তা নিয়ে কোনো ঘোষণা নেই প্রশাসনের।ফলে নির্বাচনের মতো এই পরীক্ষাও প্রহসনে পরিণত হতে চলেছে বলে মনে করছেন কাশ্মিরবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares