মুসলিম মেয়ের সাথে নেপালের প্রেম, ছবি ভাইরাল!

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় মুসলিম মেয়ের সম্মতিতে গভীর রাতে পালিয়ে বিয়ে করতে যাওয়ার সময় নেপাল রবিদাস (২৭) নামে যুবককে আটক করে গলায় জুতার মালা পড়িয়ে দেয় এলাকাবাসী। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুকে) তা ছড়িয়ে দেয়া হয়। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপযুক্ত বিচারের দাবি জানাচ্ছেন রবিদাস সম্প্রদায়ের লোকজন ও নেতারা। নেপাল রবিদাস পুটিজানা ইউনিয়নের হিরা রবিদাসের ছেলে। সে পুটিজানা ইউনিয়ন পরিষদে চৌকিদারের চাকরী করেন।

গত মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে নেপাল রবিদাস মুসলিম মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আটক করে এলাকাবাসী। পরদিন বুধবার (২৭ নভেম্বর) সকালে নেপাল রবিদাসের গলায় জুতার মালা পড়িয়ে দুপুর পর্যন্ত অমানুষিক নির্যাতন করে। পরে দুপুরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করে ছেলে-মেয়েকে অভিভাবকের হাতে তুলে দেন।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা রবিদাস উন্নয়ন সম্প্রদায়ের সভাপতি জীবন রবিদাস বলেন, মঙ্গল গভীর রাতে নেপাল রবিদাস মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী আটক করে। পরে সকালে এলাকাবাসী নেপাল রবিদাসের গলায় জুতার মালা পড়িয়ে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসে ছেলে-মেয়েকে উভয় পক্ষের হাতে তুলে দেন।তবে, আমি একান্তে নেপাল রবিদাসের সাথে কথা বললে সে জানায়, মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কোন পরিকল্পনা ছিল না। আমি এমনিতেই ঘুরতে এসেছিলাম। এমন সময় এলাকাবাসী আমাকে আটক করে।

তিনি আরও বলেন, দেশে আইন আছে, মেয়ের অভিভাবক আইনের আশ্রয় নিতে পারত কিন্তু, জুতার মালা পড়ানো ঠিক হয়নি। আমি নেপাল রবিদাসের পরিবারের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেব। পুটিজানা ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য তোফাজ্জাল হোসেন বলেন, ছেলে-মেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী আটক করে। পরে সকালে নেপাল রবিদাসকে জুতার মালা পড়িয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। পরে দুপুরে চেয়ারম্যান সাহেব খবর পেয়ে ছেলে-মেয়েকে উভয় পক্ষের হাতে বুজিয়ে দেয়।

পুটিজানা ইউনিয়ন ময়েজউদ্দিন বলেন, পালিয়ে যাওয়ার উদ্দ্যেশে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী ছেলে-মেয়েকে আটকে রাখে। সকালে এলাকাবাসী নেপাল রবিদাসকে জুতার মালা পড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। পরে আমি বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলে ও মেয়েকে উভয় পক্ষের হাতে বুজিয়ে দিয়েছি।

ফুলবাড়িয়া থানায় জানিয়েছেন কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়ের অভিভাবক থানায় জানাতে রাজি হয়নি তাই জানানো হয়নি। ফুলবাড়িয়া থানার ওসি ফিরোজ তালুকাদার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনাদের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়ার আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares