সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তে তুমুল যুদ্ধ, বাড়ছে উদ্বেগ

উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় কুর্দি মিলিশিয়া এবং তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে তীব্র যুদ্ধ চলছে। তুর্কি সেনাবাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত ১২০ জনের মতো কুর্দি যোদ্ধা নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ২০ জন বেসামরিক লোক। এ ছাড়া লক্ষাধিক লোক তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।তুরস্কের এই অভিযান নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই অঞ্চল থেকে সেনা সরানোর পর আঙ্কারা অভিযান শুরু করে, সেই ট্রাম্প এখন নিজের দেশে সমালোচনার মুখে পড়েছেন।তুরস্ক দাবি করছে, রাস আল-আইন শহরটি তারা দখল করে নিয়েছে, কিন্তু কুর্দিরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করছে।ব্রিটেনভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস নামে একটি মানবাধিকার সংস্থার বরাত দিয়ে বিবিসি বলছে, সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১২০ জনেরও বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছে। বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে ২০ জন, এবং এক লক্ষ লোক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে।খবরে বলা হয়েছে,

উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার রাস আল-আইন শহরটির ওপর কামানের গোলা বর্ষণ করা হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গা থেকে আকাশে উঠছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। শোনা যাচ্ছে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ । তুরস্কের যুদ্ধবিমানগুলো আকাশে চক্কর দিচ্ছে ।প্রসঙ্গত, উত্তর-পূর্ব সিরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্যদের প্রত্যাহার করে নেবার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তই তুরস্কের এ অভিযানের সূচনা করে।কুর্দি মিলিশিয়ারা ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করেছিল, তবে তুরস্ক এই মিলিশিয়াদের সন্ত্রাসী এবং রাষ্ট্রের জন্য হুমকি বলে মনে করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে ‘পেছন থেকে ছুরি মারা’ হিসেবে অভিহিত করেছে কুর্দি যোদ্ধারা।অন্যদিকে, তুরস্কের এই অভিযান থামানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকেই চাপ বাড়ছে।মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্ক এসপার এ অভিযানের ‘গুরুতর পরিণতির’ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন এবং অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মেনুচিন নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনার কথা বলেছেন।এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যে বলেছেন যে, তিনি তুরস্ক ও কুর্দিদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চান।কিন্তু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান বলেছেন, সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি চাইছেন, উত্তর সিরিয়ায় কুর্দি মিলিশিয়া-মুক্ত একটি নিরাপদ এলাকা তৈরি করতে, যেখানে সিরিয়ান শরণার্থীদের বসতি গড়ে তোলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares