সেই রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদলেন-কাঁদালেন

গত রোববার রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে যখন সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয় তখনও তাকে জীবিত পান তার দুই বন্ধু আরাফাত ও মহিউদ্দিন। কিন্তু বাঁচাতে না পারার আক্ষেপ তাদের কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। এ জন্য বুধবার বুয়েট ক্যাম্পাসে আন্দোলনরতদের মাঝে এসে ক্ষমাও চান তারা।শেরেবাংলা হলেই থাকেন আরাফাত ও মহিউদ্দিন। আবরারকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পিটিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়ার পর মহিউদ্দিন তাকে দেখেন কাতরানো অবস্থায়। আর আরাফাত যখন আবরারকে দেখেন, তখন তার পুরো শরীর ঠাণ্ডা হয়ে গেছে।বুধবার আরাফাত আফসোস করে বললেন, তিন-চার মিনিট আগে তিনি যদি সেখানে উপস্থিত হতে পারতেন, তাহলেও হয়তো আবরারকে বাঁচানো যেত।মহিউদ্দিন বলেন, আবরারকে কাতরানো অবস্থায় দেখার সময় এক ছাত্রলীগ নেতাকে বলা হয়, ওর অবস্থা ভালো না। ওকে হাসপাতালে নিতে হবে। তখনও ওই নেতা বলেন, ‘ওর (আবরার) কিছু হয়নি, নাটক করতাছে।

ওকে আরো মারা দরকার।’আরাফাত বলেন, পড়া শেষে রাতে নিচে খাবার আনতে বেরিয়েছিলেন তিনি। তখনই দেখেন তোশকের মধ্যে একজন পড়ে আছে। তখনো তার চিন্তায় আসেনি এ রকম হতে পারে। তার ধারণা হয়েছিল, হয়তো কেউ মাথা ঘুরে পড়ে গেছে।তিনি বলেন, ‘খোদার কসম, এক সেকেন্ডের জন্যও মাথায় আসেনি এভাবে কাউকে মারা হতে পারে।’আরাফাত বলেন, যখন তিনি আবরারের হাত ধরেন, তখন হাত পুরো ঠাণ্ডা, পা ঠাণ্ডা। শার্ট-প্যান্ট ভেজা। তোশক ভেজা। মুখ থেকে ফেনা বের হয়েছে।তিনি বলেন, ‘তখন ওকে বাঁচানোর জন্য বুকে চাপ দেই। হাতে চাপ দেই। আশপাশের সবাইকে বলি, কেউ একজন ডাক্তারকে ম্যানেজ কর। এর পর ডাক্তার আসলো। ডাক্তার দেখে বলেন, ১৫ মিনিট আগেই সে (আবরার) মারা গেছে।’এর পর মহিউদ্দিন বলেন, তখন রাত আড়াইটার মতো বাজে। তিনি খেতে বের হয়েছেন। তখন দেখেন আবরার কাতরাচ্ছেন। তখনো ছাত্রলীগ নেতা জিয়ন বলছিলেন, ও (আবরার) নাটক করতাছে। ওর কিছু হয়নি। ওকে আরো মারা দরকার।নিষ্ঠুরতার এই বর্ণনা দিতে দিতে মহিউদ্দিন ও আরাফাত উভয়ই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন। আর তা দেখে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অনেকেই কেঁদে ফেলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares