চীন-ভারত যুদ্ধ যদি লেগেই যায় জিতবে কে?

লাদাখ সীমান্ত নিয়ে চীন-ভারতের বিরোধ যখন তুঙ্গে তখনই জনমনে প্রশ্ন জাগে যুদ্ধ কি শুরু হবে? যুদ্ধ হলেই বা কতবড় যুদ্ধ হবে,কেই বা হবে জয়ী। আর সেসব বিষয় নিয়ে শুরু হয় তর্ক বিতর্ক। ইতিমধ্যে ভারতীয় অধিকাংশ জনগণ চীনকে শায়েস্তা করার পক্ষে রায় দিলেও চীন বারবার হুমকি দিচ্ছে ভারত সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করলে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ।ভারত চীন সীমান্ত সমস্যা শুরু থেকেই রয়েছে। আকসাই-চীন সীমান্ত যুদ্ধে ভারত শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। তারপর থেকেই শুরু হয় চীনকে ঘিরে নানান পরিকল্পনা। এখন আবার নতুন করে সীমান্ত উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এতে চীনের হাতে ভারতীয় এক অফিসারসহ বিশের অধিক সৈন্য মারা যায়। আর চীনও নতুন নতুন স্পটে তাদের সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করছে। এতে ভারত অনেকটা শঙ্কায় রয়েছে।প্রথমেই মূল প্রশ্ন হলো যুদ্ধ কি হবে?এর উত্তর হলো যুদ্ধ হবে কি হবে না তা নির্ভর করছে কতক্ষণ ভারত তার মেজাজ ধরে রাখতে পারবে তার উপর। ১৯৬২ সালের তুলনায় চীন যেমন শক্তিশালী, ভারতও উত্তর সীমান্তে কম শক্তিশালী নয়। তবে মূল সমস্যা হচ্ছে ভারতের একসঙ্গে দুটি একাধিক পক্ষের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হবে। চীনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সাথে সাথে পশ্চিম দিক দিয়ে পাকিস্তানও আক্রমণ করবে এটা অনেকটা নিশ্চিত। এমনকি পাকিস্তান এবং চীন পরস্পর সামরিক শক্তি ভাগাভাগি করার সম্ভাবনাও শতভাগের কাছাকাছি। সেরকম একটা বড় যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে ভারতের অর্থনীতি পিছিয়ে পড়বে অনেক। পাকিস্তানের অর্থনীতি বলতে তেমন কিছু নেই আর চীনের এতটা ক্ষতি করার শক্তি ভারতের নেই, যদি না শেষমেষ পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার হয়।তবে ছোটখাটো সীমান্ত সংঘাতে কে জয়ী হবে? ভারত নাকি চীন?অনেকেই পরিসংখ্যান তুলে ধরতে গিয়ে দুই দেশের সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম এর তুলনা করে হিসাব মেলাতে চায় । তবে ভারতের সঙ্গে চীনের সীমান্ত যুদ্ধে সামরিক সরঞ্জামের গণনার চেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবে কৌশল। তবুও সামরিক সরঞ্জাম সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দেওয়া যাক।সৈন্য সংখ্যার দিক দিয়ে চীনের রয়েছে ২১ লাখের বেশি সৈন্য সেখানে ভারতের রয়েছে চৌদ্দ লাখের কিছু বেশি সৈন্য। ডিফেন্স বাজেটে চীন খরচ করে ২৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, সেখানে ভারত ব্যয় করে মাত্র ৭১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এয়ারক্রাফ্ট চীনের রয়েছে ৩২১০ টি সেখানে ভারতের রয়েছে ২১১৩ টি। যুদ্ধ ট্যাংক চীনের রয়েছে ৩২০০ টি সেখানে ভারতের রয়েছে ৪২০০ টি। আরমার্ড ভেহিকল ভারতের রয়েছে ৮৬০০ টি সেখানে চীনের রয়েছে ৩৩০০০ টি।
চীনের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ রয়েছে ৩০০+ টি সেখানে ভারতের রয়েছে মাত্র ৪২ টি। সাবমেরিন রয়েছে চীনের ৭৪ টি সেখানে ভারতের ১৮ টি‌ । । রণতরী রয়েছে চীনের ২ টি , ভারতের ১টি। উল্লেখ্য এখানে সংখ্যায় কিছু গড়মিল হতে পারে তবে এটা পরিষ্কার যে চীন ভারত থেকে সামরিক শক্তিতে অনেক এগিয়ে।তবে চীন ভারত সীমান্ত যুদ্ধে কে জয়ী হবে?যুদ্ধে জয় পরাজয়ে সামরিক শক্তির পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে যুদ্ধের ময়দান। আর চীন ভারত সীমান্ত যুদ্ধ হবে হিমালয়ের পাদদেশে। ভারতের অবস্থান যেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কমপক্ষে ১১০০০ ফুট উপরে। চীনের অবস্থান আরো উপরে, ১৪০০০ ফুটের চেয়ে বেশি। তাপমাত্রা যেখানে হিমাংকের নিচে, অক্সিজেনের মাত্রা খুবই কম। অর্থাৎ শত্রুর পাশাপাশি পরিবেশের সঙ্গে যুদ্ধ হবে। সমভূমিতে রসদ সরবরাহ বন্ধ হলেও নানান কৌশলে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া যায়‌ । কিন্তু সেখানে রসদ সরবরাহ বন্ধ মানে নিশ্চিত মৃত্যু।যাই হোক সেখানে যুদ্ধে জয়ী হতে হলে থাকতে হবে সম্পূর্ণ পূর্ব প্রস্তুতি। ভারত ১৯৬২ সালে যুদ্ধে পরাজয়ের পর চীনকে মোকাবেলা করতে সেখানে ৩ টি অঞ্চলে বিভক্ত করেছে। পূর্ব, পশ্চিম ও মধ্য এই তিনভাগে ভারতের সেনা রয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজারের এর মতো। এখানে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি রয়েছে বিমান বাহিনী। তিব্বত ও লাদাখকে ঘিরে ভারতের অনেকগুলো বিমানঘাঁটি রয়েছে। সেগুলো হলো লেহ, শ্রীনগর, আভান্তিপুর, বারেইল্লি, আদমপুর, হালওয়ারা, আম্বালা এন্ড সিরসা।আর চীনের সেই অঞ্চলে সেনাবাহিনী রয়েছে প্রায় ভারতের সমান। কিন্তু বিমান বাহিনী ভারতের তুলনায় ততটা নেই। লাদাখ অঞ্চলে হোটান এবং গার গুনসা নামে দুটি বিমানঘাঁটি রয়েছে।‌ তবে সেখানে চীনের অনেকগুলো বেসামরিক বিমান বন্দর রয়েছে ১৪০০০ ফুট উপরে।যদি সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয় তাহলে এত উচ্চতায় চলার মতো যুদ্ধ‌ সরঞ্জাম থাকা জরুরি। ভারত সেখানে ফ্রন্টলাইনে রেখেছে T-72 ট্যাংক এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের আর্টিলারি ও রকেট সিস্টেম পাশাপাশি রয়েছে ব্রাম্মস ক্রুজ মিসাইল। এর পরিবর্তে চীনের রয়েছে বিশেষভাবে সেই পরিবেশের জন্য তৈরি করা Type-15 হালকা যুদ্ধ ট্যাংক ও 155mm সেল্ফ প্রোপেলড আর্টিলারি গান। চীনের যেমনি সৈন্য ও রসদ পরিবহনের জন্য নিজস্ব হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান রয়েছে। ভারতের রয়েছে আমেরিকার তৈরি চিনুক হেলিকপ্টার। বলতে গেলে রসদ সরবরাহে উভয় পক্ষের কোনো সমস্যা নেই।সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হলে উভয় পক্ষ যদি প্রস্তত থাকে তাহলে লড়াই চলতে থাকবে সমানে সমান যদিও চীন ভারতের চেয়ে উচ্চতায় অবস্থান করায় আর্টিলারি ফায়ারে বিশেষ সুবিধা পাবে। আর এয়ার সাপোর্ট এর জন্য উভয় দেশেরই প্রায় সমমানের যুদ্ধবিমান রয়েছে।তবে এয়ারসাপোর্ট দেওয়ার মতো গ্রাউন্ড বোম কতটা বহন করতে পারবে তা নিয়ে রয়েছে অনেক প্রশ্ন। কারণ এত উচ্চতায় সুখোই-৩০ এর মতো ভারি যুদ্ধবিমান ২ টির বেশি এয়ার-এয়ার মিসাইল নিয়ে উড্ডয়ন করতে পারে না। আর চীন তো আরো উপরে, তাদেরও একই সমস্যা হবে, কারণ ১৪০০০ ফুট উচ্চতার বায়ু অনেক হালকা। আর হালকা যুদ্ধবিমান যেমন মিরেজ-২০০০, জে-১০ এগুলোও দুটোর বেশি হালকা গ্রাউন্ড বোম নিয়ে উড়তে পারবে না।তাই বলা যায় দুই দেশের যুদ্ধবিমানের লড়াই হবে আকাশে। ভূমিতে সহায়তা করার আগেই তাদের আকাশে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে।আর সম্মুখ যুদ্ধ চলাকালে ভারত তাদের এপাচি হেলিকপ্টার এর জন্য অনেকটা সুবিধা পাবে। তবে চীন সেখানে প্রচুর পরিমাণে ড্রোণ ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে তারা গোয়েন্দা মিশন পরিচালনার পাশাপাশি বোমা হামলা করতে পারবে, ভারতের এখানে কৌশলে ভুল থাকতে পারে ড্রোন মোতায়েন না করায়। আর কোন পক্ষের কতটা ক্ষতি হবে তা যুদ্ধ শুরু না হলে বলা যাবে না।অবশেষে যে অস্ত্রটি যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে যা হলো কৌশলগত বোমারু বিমান। চীনের হাতে প্রায় ১৮০ টি Xian H-6 বোমারু বিমান রয়েছে যার রেন্জ ৬০০০ কিমি‌ । সমতল থেকে উড়ে এসে যদি ভারতীয় সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা শুরু করে তাহলে একদিনেই যুদ্ধের মোড় ঘুরে যাবে। ভারতের এ ধরনের কোনো বোমারু বিমান নেই।আর নৌবাহিনীর সক্ষমতা এখানে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ দুই দেশের দুই মহাসাগরে অবস্থান। চীন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *