করোনা মোকাবিলায় চীনের নার্সদের ভূমিকা যেমন ছিল

চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর প্রায় ৮০ হাজার মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও দেশটি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পেরেছে।

দেশটিতে ৩২৪৫ জন করোনা ভাইরাসে মারা গেলেও গত কয়েক দিনে এই হার অনেকটাই কমে এসেছে।

করোনা ইস্যুতে চীনের এই সাফল্য বিশ্ববাসীকে অবাক করেছে। চীনের সাফল্যের পেছনে সরকারের পদক্ষেপের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল নার্স এবং চিকিত্সকদের।

চীনে করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করায় নার্সরা যাতে দীর্ঘসময় কাজ করতে পারেন তার জন্য তারা ব্যবহার করেছেন বিশেষ ধরনের ডায়াপার। বেশিরভাগ নার্স তাদের সময় বাঁচাতে এবং রোগীদের উন্নত সেবা দিতে নিজের শখের চুল পর্যন্ত কাটতে দ্বিধা করেননি।

করোনা মোকাবিলায় বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ যেখানে নিরাপদে থাকা, কোয়ারেন্টাইনে থাকা কিংবা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলে নিজের দায়িত্ব পালন করছে সেখানে চীনের নার্সরা রাতের পর রাত জেগে বিরামহীন সেবা দিয়ে গেছেন।

অক্লান্ত পরিশ্রম আর ধৈর্যের ফলস্বরূপ তারা কোভিড-১৯ পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার চরম ঝুঁকি থাকার পরও তারা সেবা দিতে কার্পণ্য করেননি।

সামনে থেকে লড়াই করে গেছেন করোনার বিরুদ্ধে। রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে অনেক নার্স চুল কেটে ছোটো করে ফেলেছে; মাথার দুই পাশ দিয়ে চুল সেভ করে ফেলেছে। অনেক নার্সই চুল ফেলে দিয়ে পুরো ন্যাড়া হয়েছেন।

একটানা দীর্ঘসময় নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে ডায়াপার ব্যবহার করেছেন যাতে তাদের টয়লেটে যাওয়ার সময় বেঁচে যায়। নার্সদের এই নিষ্ঠা আর দায়িত্ববোধ মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এছাড়া অনেক নার্সই তাদের মাসিক বন্ধ রাখতে বিশেষ ধরনের ওষুধ গ্রহণ করেন। নার্স, চিকিত্সকসহ নারী কর্মীদের এমন আত্মত্যাগ বিশ্ববাসীর কাছে প্রশংসা কুড়িয়েছে। -আল জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *